অপারেটিং সিস্টেমের প্রকারভেদ
Kinds of Operating System

প্রশ্নঃ অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) কী? অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলী আলোচনা কর।
» অপারেটিং সিস্টেম (Operating System):
An Operating System is a collection of programs that manages the computer hardwires. It provides a basis for application programmers and also acts as an intermediary between the computer users and the computer hardware.
অর্থাৎ, অপারেটিং সিস্টেম হল এমন কতকগুলো প্রোগ্রামের সমষ্টি যেগুলো কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যার (Hardwires) ও সফটওয়্যার (Soft wares) কে নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান এবং কম্পিউটার সিস্টেমের সকল কার্যক্রম সক্রিয় ও সম্পন্ন হতে সাহায্য করে। সংতরাং অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্যেই কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যার সক্রিয় হয় এবং সফটওয়্যারসমূহ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে সমর্থ হয়।
উদাহরণঃ
UNIX, LINUX, Microsoft DOS, PC DOS, Microsoft Windows 95/98/NT/ XP/ 2000/ 7/ 8/ 8.1/ 10 etc.
ক. অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলী (Functions of Operating System):
উত্তরঃ
» অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো উল্লেখ করা হল-
১. অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারকে সক্রিয় (Active) ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।
২. বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের সাথে ডিভাইসসমূহের সংযোগ সাধন করে এবং সফটওয়্যারসমূহের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
৩. ইনপুট (Input) ও আউটপুট (Output) ডিভাইসসমূহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
৪. সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রাম লোড (Load) করে থাকে।
৫. ফোল্ডার (Folder) তৈরি এবং ফোল্ডার সংক্রান্ত কাজে সুবিধা প্রদান করে থাকে।
৬. ডিস্কের ত্রুটি খুঁজে বের করে এবং তা ব্যবহারকারীকে তথ্য প্রদান করে থাকে।
৮. ডিস্কের ত্রুটি নিয়ন্ত্রণের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে থকে।
৯. হার্ডওয়্যার (Hardware) এর ত্রুটি অনুসন্ধান করে এবং সেই সংবাদ মনিটর (Monitor) এর পর্দায় প্রদান করে থাকে।
১০. গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নির্ধারিত পাসওয়ার্ড (Password) ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে থাকে।
১১. ব্যবহারকারীর নির্দেশ গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও ব্যাচ প্রসেসিং করে থাকে।
১২. কোন প্রোগ্রামে ত্রুটি (Error) থাকলে তা নির্ণয় করে থাকে।
১৩. অপারেটিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক (Network) এ সাহায্য করে থাকে।
১৪. বিভিন্ন ডিস্ক হতে তথ্য মুছে ফেলা এবং এক ডিস্ক হতে তথ্য অন্য ডিস্কে স্থানান্তর করে থাকে।
এককথায় বলা যায় হার্ডওয়্যারকে (Hardware) কাজের উপযোগী করে তোলে সফটওয়্যার (Software)।
প্রশ্নঃ অপারেটিং সিস্টেমের শ্রেণিভেদ আলোচনা কর।
উত্তরঃ
নির্দেশ (Command) প্রয়োগ এর উপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
» ক. বর্ণভিত্তিক বা ডস অপারেটিং সিস্টেম (DOS Operating System):
যে অপারেটিং সিস্টেমে কীবোর্ডের সাহায্যে বিভিন্ন বর্ণ টাইপ করে এবং কীবোর্ডে বিভিন্ন বোতাম ব্যবহার করে কম্পিউটারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ (Command) প্রদান করা হয় তাকে বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
উদানরণঃ
UNIX, LINUX, Microsoft DOS, PC DOS ইত্যাদি।
» খ. চিত্রভিত্তিক বা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম (Windows Operating System):
যে অপারেটিং সিস্টেমে গ্রাফিক্স বা চিত্রের মাধ্যমে কমান্ড প্রয়োগ করে কম্পিউটার পরিচালনা করা হয় তাকে চিত্রভিত্তিক ইউপার ইন্টারফেস অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
উদানরণঃ
Microsoft Windows 95/98/NT/ XP/ 2000/ 7/ 8/ 8.1/ 10 ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেমকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যা।
উত্তরঃ
নিম্নে অপারেটিং সিস্টেমের শ্রেণিভেদ দেয়া হল-
» ১.ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম (Batch Processing Operating System):
যে পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি মাত্র প্রোগ্রাম প্রসেস করার পর অন্য কোন প্রোগ্রাম প্রসেস করা যায় তাকে ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। এক্ষেত্রে একাধিক প্রোগ্রাম একসাথে নির্বাহ করা যা না।
» ২. মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম (Multiprogramming Operating System):
যেসব অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা একটি কম্পিউটারে একসাথে অনেকগুলো প্রোগ্রাম পরিচালনার কাজ করা যায় তাকে মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
» ৩. মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম (Multiprocessing Operating System):
যে পদ্ধতিতে একাধিক সিপিইউ (CPU) ও একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করে প্রোগ্রাম প্রসেস করা হয়, তাকে মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম বলে। বিভিন্ন প্রসেসর একই সঙ্গে একই প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারে।
» ৪. রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম (Real Time Operating System):
যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থান হতে প্রাপ্ত ডেটার মধ্যে গুরুত্বের ভিত্তিতে প্রোগ্রাম নির্বাহ (Execute) করে তাকে রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। বিমানের টিকেট সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
» ৫. টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম (Time Sharing Operating System):
যে পদ্ধতিতে একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU) এর সাথে যুক্ত হয়ে একাধিক কম্পিউটারের ব্যবহারকারীগণ একই সাথে একাধিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে পারে, তাকে টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রত্যেক ব্যবহারকারী ও প্রত্যেক প্রোগ্রামের জন্য সিপিইউ (CPU) একটি নির্দিষ্ট সময় যেমন- ১ মিলি সেকেন্ড নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষুদ্র সময়কালকে বলা হয় টাইম স্লাইস (Time Slice)।
» ৬. ভারচুয়াল স্টোরেজ অপারেটিং সিস্টেম (Virtual Storage Operating System):
যে পদ্ধতিতে প্রধান মেমরির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অর্থাৎ সহায়ক মেমরির অব্যবহৃত অংশকে প্রধান মেমরি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করা যায়, তাকে ভারচুয়াল স্টোরেজ অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। বড় প্রোগ্রামগুলোর ক্ষেত্রে মেমরির সীমাবদ্ধতার জন্য এগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে প্রোগ্রামের নির্বাহ (Execute) করা হয়। আর এ ছোট ছোট অংশগুলোকে বলা হয় সেগমেন্ট। প্রোগ্রাম নির্বাহ কালে কোন সেগমেন্ট রিয়েল স্টোরেজে থাকা অবস্থায় কাজ সম্পন্ন করার পর উক্ত প্রোগ্রাম সেগমেন্টকে রিয়েল স্টোরেজ থেকে ভারচুয়াল স্টোরেজে স্থানান্তরিত করে এবং অন্য একটি সেগমেন্ট আবার ভারচুয়াল স্টোরেজ হতে রিয়েল স্টোরেজে নিয়ে আসে।
» ৭. ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম (Distributed Operating System):
যে অপারেটিং সিস্টেমে কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কযু্ক্ত একাধিক কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করা যায় তাকে ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। এ সিস্টেমের উদ্দেশ্য হল সম্পূর্ণ সিস্টেমের জন্য একটি অভিন্ন পরিবেশ তৈরি করা এবং অতি অল্প খরচে একটি বৃহৎ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করা। এ ক্ষেত্রে যে কম্পিউটারটি সম্পূর্ণ সিস্টেমকে পরিচালনা করে, তাকে বলা হয় সার্ভার (Server) এবং সার্ভারের সাথে সংযু্ক্ত কম্পিউটারকে বলা হয় ক্লায়েন্ট (Client) কম্পিউটার।
S3 Operating System অপারেটিং সিস্টেম #4
Copyright © Sabyasachi Bairagi