করোনা থেকে বাঁচার উপায়

সব্যসাচী বৈরাগী
প্রভাষক
karona virus

ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস

সুচনা:

করোনা ভাইরাস জনিত একটি রোগ। করোনা থেকে বাঁচার জন্য পৃথিবীর সকল মানুষ এখন তাদের আচরণগত পরিবর্তন করতে ব্যস্ত। অনেকে এখন স্লোগান তুলছেন “নমস্তে করোনা, তুমি আমাদের মেরো না” । কেউ কেউ বলছেন করোনা নাকি একটি অসাম্প্রদায়িক ভাইরাস, যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আক্রান্ত করছে এবং মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। আমাদের আচরণই যে আমাদের মৃত্যুর একমাত্র কারণ সে কথা আমরা মানতে নারাজ। এখন প্রশ্ন হলো কি করলে আমরা করোনা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারি।

ভাইরাস (VIRUS):

ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ। এর অর্থ হল বিষ। ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই শুধুমাত্র বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ভাইরাস জীবও না জড়ও না। জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী এক প্রকার ক্ষুদ্রাণু। জীব দেহের বাইরে ভাইরাস জড়ের মতো আচরণ করে।

ভাইরাসের গঠন:

ভাইরাসের দেহ প্রোটিন আবরণ দ্বারা আবৃত এবং তার ভিতরে থাকে ডিএনএ বা আরএনএ অণু। আমরা জানি প্রত্যেক জীবেরই বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে ডিএনএ বা আরএনএ অণু মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আর এখানেই লুকিয়ে আছে ভীত হবার কারণ। আরএনএ বা ডিএনএ অণু জীবদেহের ভিতরে প্রবেশ করে জীবদেহে অবস্থিত প্রোটিন সংশ্লেষণ করে তাদের বংশ বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন প্রকার শরীর বৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটায়।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা:

মানবদেহে অবস্থিত শ্বেত রক্তকণিকা বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগজীবাণু ভক্ষণ করে। শরীরে কোনো ভাইরাস প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদেরকে ধ্বংস করে এবং পরবর্তি আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য এক প্রাকার এন্টিজেন তৈরি করে। যার ফলে পরবর্তীতে ওই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে আগে থেকে তৈরি হওয়া এন্টিজেন তাদেরকে ধ্বংস করে। ফেলে একই ভাইরাস দ্বারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ভাইরাস সমূহ:

ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি ভাইরাস ডিএনএ অথবা আরএনএ অণু দ্বারা গঠিত। অধিকাংশ ডিএনএ অণু দ্বারা গঠিত ভাইরাস Mammalia (স্তন্যপায়ী) শ্রেণির প্রাণীকে আক্রান্ত করে এবং আরএনএ ভাইরাসগুলো সাধারণত উদ্ভিদেহে আক্রমন করে।

গুটিবসন্ত (Smallpox):

গুটিবসন্ত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি মানুষের।

স্প্যানিশ ফ্লু (Spanish Flue):

১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারায় পাঁচ থেকে দশ কোটি মানুষ।

ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus):

২০১৩-২০১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী সৃষ্টি করে। ১১,৩১০ জনের মৃত্যু হয়। বাদুরের মাধ্যমে ছড়ায়।

রেবিজ ভাইরাস (Rabies Virus):

প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয়, তার নাম জলাতঙ্ক। প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে জলাতঙ্কের আক্রমণে প্রাণ হারায় ৫৯ হাজার মানুষ।

এইচ৫ এন ১ (H5 N1):

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা দায়ী।

এইচআইভি (HIV Virus):

প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।

MERS (Middle East Respiratory Syndrome):

করোনা ভাইরাসেরই একটি প্রকার যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেখা দেয়।

SARS (Severe Acute Respiratory Syndrome):

উৎপত্তি চীনে। বিজ্ঞানীরা বলছেন খাটাশ জাতীয় বিড়াল থেকে ভাইরাসটি এসেছে । তবে এটিও বাদুরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিপাহ ভাইরাস:

বাদুর থেকে ছড়ায়। মৃতের সংখ্যা ৭০ শতাংশ।

নভেল করোনা (Covid-19):

উৎপত্তি চীনে। ধারণা করা হচ্ছে বাঁদুর, সাপসহ বিভিন্ন পশু-পাখি কেনা-বেঁচার হাট থেকে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।

পরিত্রাণ পাবার উপায়:

করনা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ হিসেবে যে আচরণ করা প্রয়োজন শুধু এটা করলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমান আমরা মানব ধর্ম পরিত্যাগ করে দানব ধর্ম গ্রহণ করেছি। তাই এখন করোনা থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজতে হচ্ছে। সমস্ত উদ্ভিদকুল ধ্বংস করে একদিন এমনিভাবে অক্সিজেনের জন্য আমাদের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দৌড়াতে হবে।

আত্ম উপলব্ধি:

মানুষ নিজেকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবি করে। যদি তা শক্তির নিরিখে হয় তাহলে বলা যায় ক্ষুদ্র একটি ভাইরাসের তুলনায় তার ক্ষমতা খুবই নগণ্য। যদি তা আকৃতি বা গঠনের দিক থেকে হয় তাহলে অন্য অনেক প্রাণীর থেকে তা খুবই সামান্য। যদি হয় সৌন্দর্যের বিচারে তাহলে বলব এত সুন্দর সৃষ্টিকে কেন বোমা মেরে ধ্বংস করতে সামান্য বিচলিত হয় না? পরিষেশে বলা যায় যত দাবিই আমরা করি আসলে আমরা নিজেরাই তা বিশ্বাস করি না। একমাত্র জ্ঞান, বিবেক, মানবিকতা, মনুষত্ব এগুলো দিয়েই আমরা বলতে পারি সৃষ্টির সেরা জীব।

ঈশ্বরের দেওয়া জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস ছাড়া মানবিক গুণাবলীর কোনটাই বর্তমান সময়ে মানুষ অর্জণ করতে পারেনি। শুধুমাত্র আমাদের রসনা তৃপ্তির জন্য পরম করুনাময়ের নামে আমরাই করছি পশুবলি, মারছি অন্যের ঘাড়ে বোমা। তাই নিজেকে নিজে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবি করার আগে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখা উচিত তা কতটুকু সত্য! আর তার জন্য আমরা কি করেছি?

প্রকৃতি ও মানুষ:

কেউ সৃষ্টির সেরা জীব, কেউবা অধম এ ধারনা থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। ঈশ্বরের প্রতিটা সৃষ্টিই সেরা এবং মহৎ। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল বস্তু, প্রাণী যে যার ধর্ম নির্বাহ করে চলছে। একমাত্র মানুষই ঈশ্বরের দেওয়া পবিত্র জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সকল প্রকার অনৈতিক এবং অমানবিক কাজগুলো করছে। আবার তার দায়ভার ঈশ্বরের নামেই চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতি মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে দান করে চলেছে মানুষের বেঁচে থাকার সকল রসদ। প্রতিদানে মানুষ নির্বিচারে ধ্বংস করছে সেই প্রকৃতি ও তার প্রাণীগুলোকে। প্রকৃতির সাথে বিরোধই আজ মানুষের ধ্বংস হবার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হে অর্জুন পর্বত সমূহের মধ্যে আমি সুমেরু পর্বত, স্তাবর পদার্থের মধ্য আমি হিমালয়, বৃক্ষসমূহের মধ্য আমি অশ্বথ, গাভীগণের মধ্যে আমি কামধেনু, সর্পগণের মধ্যে আমি বাসুকি, পশুদের মত আমি সিংহ, পক্ষিগণের মধ্য আমি গরুর, বেগবানগণের মধ্যে আমি বায়ু, ঋতুর মধ্যে আমি ঋতুরাজ বসন্ত, মৎস্যকুলের মধ্য আমি মকর নদীসমূহের মধ্য আমি গঙ্গা। হে অর্জুন সমগ্র সৃষ্টির আদি, মধ্য ও অন্ত আমিই। অর্জুন সকল ভুতের উৎপত্তির কারণও আমি। কারণ স্থাবর বা জঙ্গম এমন কোন প্রাণী-ই নেই যা আমার ছাড়া সত্তাবান হতে পারে। শ্রীমদ্ভগবদগীতা- বিভূতিযোগ

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুই ঈশ্বরের শক্তিতেই সত্যবান হয়, সবকিছুর মধ্যে তার প্রকাশ। ভারতীয় উপমহাদেশের মুনি-ঋষিদের দেওয়ায় এ শিক্ষা যদি আমাদের সুন্দর পৃথিবী গড়তে সাহায্য করে তাহলে অচিরেই তা শুরু করা উচিত।

ধর্ম ও মানুষ:

বিশ্বাস যেখানে প্রবল সকল প্রকার সত্য সেখানে মূল্যহীন, কুসংস্কার ও অজ্ঞতা সেখানে সম্রাট। মানুষের ধর্ম যেখানে হওয়া উচিত মানবিকতা, মনুষত্ব, ন্যায়নিষ্ঠতা, সততা, ভালোবাসা, নিঃস্বার্থপতা, নিরহঙ্কার, দানশীলতা, ক্ষমা, দয়া, সত্যবাদিতা সেখানে ধর্ম আজ বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার করার হাতিয়ার হয়ে দাড়িছে।

দেবতা ও মানুষ:

যে নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু দান করে চলে কিন্তু প্রতিদানে কিছু চায় না সেই দেবতা। সে হিসাবে প্রকৃতিতে দেবতার সংখ্যা ৩৩ কোটি।
১। অষ্ট বসু- ৮টি: (অগ্নি,পৃথিবী, বায়ু, অন্তরীক্ষ, আদিত্য, চন্দ্র, দ্যৌ ও নক্ষত্রসমূহ)
২। একাদশ রুদ্র ১১টি: (জ্ঞানেন্দ্রিয় ৫টি, কর্মেন্দ্রিয় ৫টি ও আত্মা)
৩। দ্বাদশ আদিত্য ১২টি: (বারো মাস)
৪। ইন্দ্র ও
৫। প্রজাপতি

যোজ্ঞ দ্বারা আরাধিত হয়ে দেবতাগণ তোমাদের ভোগ্যবস্তু প্রদান করেন। অতএব, এই দেবতা প্রদত্ত বস্তু দেবতাগণকে নিবেদন না করিয়া যিনি ভোগ করে তিনি নিশ্চয়ই চোর। শ্রীমদ্ভাগবতগীতা-১২/ ৪
প্রকৃতি আমাদের সবকিছু প্রদান করছে অতএব, প্রকৃতিকেও তার প্রতিদান দেওয়া উচিত। আমরা আমাদের কর্তব্য (ধর্ম) পালন না করলেও প্রকৃতি তার ধর্ম পালন করছে। প্রকৃতির সাথে আমরা যে আচরণ করছি প্রকৃতি তার প্রতিদানই আমাদের ফেরত দিচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অফ ইলিয়নস কলেজের আইনের অধ্যাপক ডঃ ফ্রান্সিস বয়ের দাবি করেছেন জিনের গঠন বদলে ভয়ঙ্কর রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে নভেল করোনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
namoste korana
namoste korana
namoste korana
namoste korana

নমস্তে করনা তুমি আমাদের মেরনা:

করোনার আতঙ্কে আজ হ্যান্ডসেইক করতেও ভয় করছি। আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, ইংল্যান্ডের রাজপুত্র প্রিন্স চার্লস, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইংল্যান্ডের ক্রিকেট টিমের অধিনায়কসহ বিশ্বের বহু লোক আজ হ্যান্ডসেট এর পরিবর্তে নমস্তে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বহু বছর আগে থেকেই ভারতবর্ষে নমস্তে ব্যবহারের প্রচলন ছিল। নমস্তে সম্ভাষণ যদি মানুষের জন্য ভালই হয় তাহলে অনেক আগে থেকেই সবার সেটা গ্রহণ করা উচিত ছিল। এখন শুধু বাঁচার জন্য হাজার বছরের পুরাতান সেই নমস্তে সম্ভাসনে ফেরত যাওয়া কেন? ধর্মই যদি আমাদের সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে তাহলে আমরা কিসের আশ্রয় নিব।

মানুষের খাদ্যাভ্যাস:

মানুষ কি জন্মগতভাবে ভেজিটেরিয়ান নাকি নন ভেজিটেরিয়ান? মানুষ তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ভালোলাগা ও খারাপলাগার উপর ভিত্তি করেই তার জন্য সুবিধাজনক ব্যবস্থা এবং আইন সে নিজেই তৈরী করে নেয়। আর সে কারণেই বহু বছর ধরে আজও এই বিতর্ক রয়েই গেছে আসলে মানুষের খাদ্যাভ্যাস কি হওয়া উচিত।

রোগ ও খাদ্যাভ্যাস:

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি পশু-পাখি যে সকল ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় মানুষও ঠিক সেই সকল ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারাই আক্রান্ত হয়। তাই এটা মেনে নিতেই হবে যে মানুষ যদি ভেজিটেরিয়ান হতো তাহলে এতো রোগ-ব্যধি দ্বারা সে আক্রান্ত হতো না।

সৃষ্টিগতভাবেই কি মানুষ মাংসাশী?

অনেকে দাবি করেন সৃষ্টিগতভাবে মানুষকে মাংসাশী হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও উপস্থাপন করেন। যুক্তিগুলো নিম্নরুপ-
১। যেহেতু মাংস খেলে হজম হয়, সেহেতু মানুষ মাংস খাওয়ার উপযোগী।
২। যে সকল প্রানী মাংসাশী তাদের ছেদন দাঁত একটু বড় হয়, মানুষেরও তাই।
৩। মাংসাশী প্রাণী দের নখ বড় হয়।
অনেকে তা মানতে পারেন না। তাদের বিপরীত যুক্তিও আছে। যুক্তিগুলো নিম্নরুপ-

প্রাণীর দেহ গঠনের জন্য ৬টি সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। আর তা হজম করার জন্য এনজাইম বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। প্রোটিন পরিপাকে জন্য পেপসিনোজেন, কার্বোহাইড্রেট পরিপাকে টায়ালিন, লিপিড পরিপাকে লাইপেজ ইত্যাদি। মসুরের ডালে ২৪% প্রোটিন থাকে, মুরগির মাংস তে ২৭% প্রোটিন থাকে, গরুর মাংস ২২% প্রোটিন থাকে। যেহেতু মানব শরীর গঠনের একটি প্রধান উপাদান প্রোটিন এবং তা পরিপাকের জন্য পেপসিনোজেন হরমোন নিঃসৃত হয় সেহেতু ডালের প্র্রোটিন হোক বা মাংসের প্রোটিন হোক তা খেলে পেপসিনোজেন হরমোনের প্রভাবে হজম হবে। এটা বলা যায় না যে হজম হয় বলেই মানুষের জন্য সেই পদার্থ খাওয়ার যোগ্য। অনেকে বালি, মাটি, ইট এমনকি কাচ খেতেও দেখা যায় তাহলে কি বলতে হবে এগুলো মানুষের খাদ্য!

কুকুর, বিড়াল, বাঘ, সিংহ যারা মাংসাশী তাদের ছেদন দাঁত অনেক বড় হয়। বিবর্তনের ধারায় মানুষকে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন পশু-পাখির মাংস খেয়ে বাঁচতে হয়েছে। আর ছোট ছেদন দাঁত আছে বলে অনন্তকাল মাংস খেতে হবে তা হতে পারে না। আর এ কারণে এটাও প্রমাণ হয় না যে মানুষ সৃষ্টিগত ভাবে মাংসাশী প্রাণী।

মাংসাশী প্রাণীর নখ বড় এবং গোলাকার ও শক্ত হয়। কিন্তু মানুষের নক তেমন না। তাই নখ দেখে মানুষকে মাংসাশী প্রমাণ করা যায় না।

মাংসাশী প্রাণী গুলো জিবভার সাহায্য পানি পান করে তৃণভোজী প্রাণী মুখ দিয়ে ঢোক গিলে পানি পান করে। তাই বলা যায় পানি পান করার ক্ষেত্রে মানুষের বৈশিষ্ট্য তৃণভোজী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের মত।

মাংসাশী প্রাণী রাতের বেলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তৃণভোজী প্রাণী দিনের বেলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এক্ষেত্রে মানুষের বৈশিষ্ট্য তৃণভোজী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের অনুকুল।

মাংসাশী প্রাণী রেটিনাতে রডস এর তুলনায় কোন্ এর পরিমাণ বেশি থাকে ফলে তারা রাত্রেও দেখতে পারে। কিন্তু তৃণভোজী প্রাণীদের চোখে রেটিনাতে কোন‌্ এর পরিমাণ কম থাকার কারণে রাতের বেলা দেখতে পারেনা। মানুষ রাত্রেবেলা দেখতে পারে না। এক্ষেত্রে মানুষের বৈশিষ্ট্য তৃণভোজী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য মত।

শ্রীমৎভাগবত গীতায় মানুষের খাদ্যাভ্যাস:

শ্রীমৎভাগবত গীতায় মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। জেনে নেওয়া যাক-

বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সকলের নিজ নিজ প্রকৃতি অনুসারে প্রিয় হয়। শ্রীমদ্ভাগবতগীতা- ৭/১৭

যে খাদ্য আয়ু, উদ্যম, বল, আরোগ্য, সুখ, পৃতি বৃদ্ধি করে এবং সরোস, স্নিগ্ধ, পুষ্টিকর ও মনোরম সেই সকল খাদ্য সাত্ত্বিক (উৎকৃষ্ট) ব্যক্তিগণের প্রিয় হয়। শ্রীমদ্ভগবদগীতা- ৮/১৭

যে খাদ্য অতি তিক্ত, অতি অম্ল, অতি লবণাক্ত, অতি উষ্ণ, অতি শুষ্ক, অতি প্রদাহকর এবং যে খাদ্য দুঃখ-শোক, রোগ সৃষ্টি করে সেই সকল খাদ্য রাজসিক (দাম্ভিক) লোকদের প্রিয় হয়। শ্রীমদ্ভগবদগীতা- ৯/১৭

যে সকল খাদ্য রসহীন, পঁচা-বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত, উচ্ছিষ্ট, অপবিত্র সে সকল খাদ্য তামসিক (নিকৃষ্ট) ব্যক্তিদের প্রিয় হয়। শ্রীমদ্ভাগবতগীতা- ১০/১৭

উপরোক্ত শ্লোক গুলি থেকে এটি স্পষ্ট যে মানুষের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার খাদ্য তার প্রিয় হয়। এখানে কোন খাদ্যের গুন কি সেটা বিবেচনা করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে তার খাদ্য নির্বাচন করা উচিত। আর এই নির্বচনের ব্যর্থতার জন্যই মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

যোগ ও সুস্থতা:

যোগ মানে সংযোগ, নিজের সঙ্গে নিজের সংযোগ এবং নিজের আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ। নিজেকে নিজে চিনতে পারলে পরমাত্মাকেও চেনা যায়। বেদ বলছে নিজেকে চেনো, সক্রেটিসও তাই বলেছেন, স্বামী বিবেকানন্দ সেই একই কথা বলেছেন কারণ একমাত্র নিজেকে চিনতে পারলেই সেই পরমাত্মাকে চেনা যাবে।

যোগ প্রধানত দুই প্রকার

শরীর সুস্থ রাখার জন্য যোগ এবং পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হবার জন্য মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধির জন্য যোগ। শরীর যদি সুস্থ না থাকে তাহলে নিজের মনকে স্থির করা সম্ভব নয়। সেহেতু শরীরকে সুস্থ করার জন্য ভারতীয় উপমহাদেশের যোগীগণ বিভিন্ন যোগের উপদেশ দিয়েছেন। যোগেশ্বর শিব ৮৪ লক্ষ যোগের কথা বলেছেন। আজ সারা বিশ্বে পতঞ্জলি প্রদত্ত বিভিন্ন প্রকার যোগ শিক্ষা গ্রহণ করছেন শরীর এবং মনের সুস্থতার জন্য।

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ঋষি, মুনি, যোগী সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করার জন্য তাদের উপলব্ধ বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি ব্যবহার ও আচার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। সেগুলো যতই উৎকৃষ্ট হোক না কেন এতদিন শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ সেগুলো পালন থেকে বিরত থেকেছে। ধর্ম যদি আমাদেরকে সৎ পথ, সত্য পথ ও সত্য গ্রহণ করতে বাধা হয়ে দাড়ায় মিথ্যাকে বর্জন করতে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সে ধর্ম আমাদের চলার পথের বাঁধা এগুলোকে ধর্ম না বলে কুসংস্কার বালাই শ্রেয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন "সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা চলে কিন্তু কোন কিছুর জন্য সত্যকে পরিত্যাগ করা চলে না"। তাই যা কিছু সত্য তা গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ শান্তিময় পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে মানবজাতির একসাথে সামনে এগিয়ে চলতে হবে। আর শুধুমাত্র তাহলেই এ সকল ভয়াবহ ব্যাধি থেকে মানুষ সমাজ মুক্ত থাকতে পারবে।

উপনিষের মন্ত্র

পরিশেষে উপনিষদের একটি মন্ত্র দিয়ে শেষ করি আজকের এই প্রতিবেদন। সবাই যেন সুখী হয়, সকলেই আরোগ্য লাভ করুক, সবাই শান্তি লাভ করুক, কখনো কেহ যেন দুঃখ ভোগ না করে। বৃহদারন্যক উপনিষদ ০১/০৪/১৪
ওম শান্তি শান্তি।।
Sabyasachi © Bairagi